Friday, September 30, 2016

আফ্রিকান নরপশুদের গুলিতে বাংলাদেশের একজন নিহত

2:00 PM Posted by স্বপ্নের ব্যবচ্ছেদ No comments

ইকবাল । মুন্সিগঞ্জ সদর থানার রতনপুর গ্রামে তার জন্ম। তিনি প্রায় ৫-৬ বছর যাবৎ আফ্রিকায় অবস্থানরত ছিলেন।সেখানে খুব ভালোভাবে চলছিল তার দিনগুলো। হঠাৎ ২৯শে সেপ্টেম্বর বর্বর আফ্রিকানদের গুলিতে তার ছোট্ট জীবনের অবসান ঘটে। ব্যাবসার কাজে সকালে তিনি ঘর ছেড়ে আসেন। আর ফেরা হয়নি তার ঘরে। আফ্রিকান ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। ছিনতাইয়ের পরে তাকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। তার হত্যার খবর গ্রামে ছড়ানোর পর চারিপাশে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্তব্ধতায় ছেয়ে গেছে চারিপাশ। মূলত তিনি ছিলেন অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির একজন মানুষ। এলাকায় তার বেশ সুনাম রয়েছে। তার এই অস্বাভাবিক মৃত্যু গ্রামের প্রতিটা মানুষের হৃদয়কে কাঁদিয়ে তুলেছে। মানতে পারছেনা তারা আজও। আর কতকাল আমাদের প্রাণ নিয়ে তারা খেলবে? আর কতকাল আমরা সাধারণ বাঙ্গালিরা প্রান দিবো? আর কত রক্ত চায় তারা? কেন কোন বিচার নেই সে দেশে? কেন এতো অনিশ্চয়তায় ভুগতে হবে তাদের? কেন ইকবালের মত মানুষদের জীবন নিয়ে খেলা হচ্ছে? আমরা বাঙ্গালি বলে কী বিশ্ব দরবারে আমাদের বিচারের স্থান হবে না ? আমরা সাধারণ মানুষ এই নির্মম হত্যার বিচার চাই।

Monday, September 5, 2016

সোনা চোরাচালানে বাহক ছাড়া কেউ ধরা পড়ছে না

3:34 PM Posted by স্বপ্নের ব্যবচ্ছেদ No comments
ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই বিমানবন্দর থেকে গত তিন অর্থবছরে প্রায় ২ হাজার ৭৩২ কেজি সোনা জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ঢাকা কাস্টমস। জব্দ করা এসব সোনার বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ৮৮ কোটি টাকা। এই সময়ে শুল্ক গোয়েন্দাদের সোনা জব্দের ঘটনায় ২৩৪টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৩১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে ১৯৯টি মামলায়।

অন্তত ৩০টি অভিযোগপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তাতে সোনা চোরাচালানে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রগুলোর কার্যক্রম, এর প্রধান ব্যক্তি কারা, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেই। বেশির ভাগ অভিযোগপত্রের ভাষা প্রায় একই ধরনের। অভিযোগপত্রে সোনা বহনের সময় আটক ব্যক্তিদের বাইরে অন্য কাউকে আসামি করা হয়নি। কার কাছ থেকে সোনা এসেছে, কোথায় যাবে বা কে অর্থের জোগান দিয়েছে—সেই রহস্য বের করতে পারেনি পুলিশ।

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৬৯৯ গ্রাম সোনাসহ ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর আটক হন কাউছার হামিদ (২৬)। তিন মাস তদন্ত শেষে ৩১ মার্চ ২০১৪ তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্রে কাউছারকে চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এই চক্রের অন্য সদস্য কারা বা চক্রের মূল হোতা কে, সে সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি অভিযোগপত্রে।

আবার তদন্তে সন্দেহভাজন কারও নাম পাওয়া গেলেও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা বের করতে না পারায় সন্দেহভাজনদের ছাড়াই অভিযোগপত্র জমার নজির রয়েছে। ২০১৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশনের কর্মচারী সাইফুল ইসলাম দেওয়ানসহ (৩০) তিনজন ১১ কেজি ৩০০ গ্রাম সোনাসহ আটক হন। পরদিন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিমানবন্দর থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০১৪ সালের ২১ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। তদন্তে এই তিনজন ছাড়া আরও দুজনের নাম সন্দেহভাজন হিসেবে পাওয়া যায়। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে সোনা বহনের সময় আটক তিনজনকে আসামি করেই আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এতে সোনা বহনকারী ছাড়া চোরাচালান চক্রের অন্যরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছে।

এভাবে বহনকারী পর্যন্ত তদন্ত সীমাবদ্ধ থাকাকে পুলিশের অদক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার অভাব হিসেবে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, সোনা চোরাচালানের সঙ্গে সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত, এটি সর্বজনবিদিত। দক্ষতার সঙ্গে তদন্ত করে চক্রের মূল ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে সোনা চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ হবে না।

তবে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের (বিমানবন্দর থানা উত্তরা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত) অতিরিক্ত উপকমিশনার রাফিউল আলম প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের চেষ্টায় ত্রুটি নেই। অধিকাংশ ঘটনায় বাহক নিজেই জানে না, কার কাছ থেকে সোনা এসেছে, আর কাকে দিতে হবে। অধিকতর তদন্তের জন্য এ ধরনের মামলা এখন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তরকরা হচ্ছে।

দেশে সোনা চোরাচালানের প্রধান দুটি পথ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ঢাকা কাস্টমস সূত্র জানায়, গত তিন অর্থবছরে সরকারি এই সংস্থা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১ হাজার ৪৩২ কেজি সোনা জব্দ করেছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫৭০ কোটি টাকা। এ ছাড়া একই সময়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর ঢাকার শাহজালাল ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কেজি সোনা জব্দ করেছে।

এর মাধ্যমে সোনা চোরাচালান চক্র ভেঙে পড়েছে বলে দাবি করেছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান। তারপরও সোনা চোরাচালান কেন বন্ধ হচ্ছে না জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটি শতভাগ বন্ধ করা সম্ভব নয়। শুল্ক কর্মকর্তাদের তৎপরতার কারণে আগের মতো বড় চালান আর আসে না।’

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সোনা চোরাচালানের ঘটনায় ২০১৩ সালের জুলাই থেকে গত মার্চ পর্যন্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ২৩৪টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৫টি মামলা হয়েছে ঢাকার বিমানবন্দর থানায় এবং ৩৯টি মামলা হয়েছে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানায়। এসব মামলায় ৩১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। যাঁদের অধিকাংশই সোনাসহ হাতেনাতে আটক হন।

যোগাযোগ করা হলে গত ৭ আগস্ট ঢাকার বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বি এম ফরমান আলী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর থানার ১৯৫ মামলার মধ্যে এখনো কোনো মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে এমন তথ্য তাঁর কাছে নেই। পতেঙ্গা থানার ওসি মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, তাঁর থানায় হওয়া ৩৯ মামলার মধ্যে ১টি মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। অন্য কোনো মামলায় কারও সাজা হয়েছে বা কেউ খালাস পেয়েছেন, এমন নির্দেশনা বা আদেশ আদালত থেকে তিনি পাননি।

মামলাগুলোর সর্বশেষ অগ্রগতি জানিয়ে গত মে মাসে পতেঙ্গা থানা এবং গত জুন মাসে বিমানবন্দর থানা শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরে পৃথক নথি জমা দিয়েছে। নথি বিশ্লেষণ করে অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই এসব মামলার ১৯৯টির (বিমানবন্দরে ১৭১, পতেঙ্গায় ২৮টি মামলা) অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

থানায় কারও বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হলে পুলিশ তদন্তে নামে। তদন্তে কারও দোষ পাওয়া গেলে সেই ব্যক্তির বিচারের জন্য আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনটি হচ্ছে অভিযোগপত্র। আর তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়া গেলে, প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হলে কিংবা অপরাধের সঙ্গে আসামিদের সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া গেলে পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। চূড়ান্ত প্রতিবেদনের পর মামলা খারিজ হয়ে যায়।

আসামিদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়ে ২৩৪ মামলার মধ্যে ৬টি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন এরই মধ্যে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসব ঘটনায় আসামি সোনাসহ হাতেনাতে আটক হয়নি বা সোনা পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে—অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেসব মামলার তদন্ত সোনা উদ্ধারেই শেষ হয়েছে। কীভাবে সেখানে সোনা এল, তা তদন্তে বের হয়নি।

দুই থানার ২৩৪টি মামলার মধ্যে ৬টিতে হাতেনাতে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে এই মামলাগুলো হয়েছে ঢাকার বিমানবন্দর থানায়। প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়ে এমন তিনটি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া এমন একটি মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ৩ ডিসেম্বর এমিরেটস এয়ারলাইনসের বিমান থেকে যাত্রী নেমে যাওয়ার পর বিমানে ৩৭ কেজি ২৮০ গ্রাম ওজনের ৩২০টি সোনার বার পাওয়া যায়, যার আনুমানিক মূল্য ১৯ কোটি টাকা। মামলাটি তদন্ত করেন ডিএমপির বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম। প্রায় ছয় মাস তদন্ত করেও তিনি উদ্‌ঘাটন করতে পারেননি, কীভাবে সোনাগুলো বিমানে এল। কিছুই না পেয়ে গত ২৫ মে মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন তিনি। জানতে চাইলে জহিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটি সূত্রবিহীন (ক্লু-লেস) মামলা ছিল। পরিত্যক্ত অবস্থায় সোনা উদ্ধার করা হয়েছে, কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তদন্তে অনেক চেষ্টার পরও কাউকে শনাক্ত করতে পারিনি। তাই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।’

তবে হাতেনাতে সোনাসহ আটক না হলেও একটি মামলায় অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। অন্য দুটি মামলার তদন্ত চলছে। এই দুই মামলা ছাড়াও দুটি থানায় আরও ২৭টি মামলা তদন্তাধীন আছে।

এদিকে অভিযোগপত্র দেওয়া বিমানবন্দর থানার ১৭১টি মামলায় অজ্ঞাতনামা ৭ জনসহ ২৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে পতেঙ্গা থানার ২৮টি মামলার অভিযোগপত্রে ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই ৩৬ জনের মধ্যে গত মে মাসে আবদুল্লা আলামিন (৩১) নামে একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। অন্য আসামিদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে মামলাগুলোর বাদীপক্ষ শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরএবং সংশ্লিষ্ট দুই থানা থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তবে নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক আইনজীবী জানিয়েছেন, সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত অধিকাংশ মামলার আসামি এখন জামিনে আছেন। ডিএমপির বিমানবন্দর থানার ১০টি মামলার তথ্য বিশ্লেষণ করে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। এই ১০ মামলায় আসামি ছিলেন ৪২ জন। গত ২১ জুলাই পর্যন্ত এই ৪২ আসামির ২৭ জন জামিনে এবং ৭ জন পলাতক ছিলেন। একজন মারা গেছেন, অন্যরা কারাগারে আছেন।

আসামিদের জামিন সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবদুল্লাহ আবু প্রথম আলোকে বলেন, সোনা চোরাচালানের ঘটনায় নিম্ন আদালত থেকে এখন আর কারও জামিন হয় না। তবে সময়মতো সাক্ষী হাজির না হওয়া এবং দুর্বল অভিযোগপত্রের কারণে কিছু কিছু মামলার যথার্থ বিচার হয় না বলে তিনি স্বীকার করেন।

তবে সাক্ষী হাজির না হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, অনেক সময় ১০ বছর আগের মামলার সাক্ষীর নামে চিঠি আসে। এমন ক্ষেত্রে সাক্ষী পেতে সমস্যা হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দায়ের করা মামলায় শুল্ক কর্তৃপক্ষের সাক্ষীরা যথাসময়ে উপস্থিত হন।


Sunday, September 4, 2016

পোশাকই হবে এসি!

3:38 AM Posted by স্বপ্নের ব্যবচ্ছেদ No comments
প্রচণ্ড গরমে পোশাকই এয়ার কন্ডিশনের মতো শরীর শীতল রাখতে সক্ষম হবে। মার্কিন গবেষকেরা পোশাকের জন্য এমন উপাদান তৈরি করেছেন। ওই উপাদান পোশাকের মধ্যে বুনে দিলে শরীর শীতল থাকবে। বাড়তি কোনো এয়ার কন্ডিশন প্রযুক্তির প্রয়োজন হবে না। গবেষকেরা প্লাস্টিক থেকে তৈরি এই উপাদানকে ‘সাশ্রয়ী’ টেক্সটাইল বলছেন।
‘সায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণা সংক্রান্ত নিবন্ধ। গবেষকেরা বলছেন, উষ্ণ অঞ্চলে যারা বাস করেন তাঁদের জন্য এই পোশাক কাজে লাগানো যাবে।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সহযোগী অধ্যাপক ইয়ি চুই বলেন, ‘যদি পুরো ভবনকে ঠান্ডা করার পরিবর্তে শুধু ব্যক্তিকে ঠান্ডা করা যায় তবে শক্তি সাশ্রয় হয়।’
গবেষকেরা শীতল পোশাক তৈরি করতে ন্যানোপ্রযুক্তি, ফোটোনিকস ও রসায়ন একসঙ্গে করেছেন। এই টেক্সটাইল আরও উন্নত করতে কাজ করছেন গবেষকেরা। তথ্যসূত্র: এএফপি।

কেমন ফার্স্ট লেডি হবেন মেলেনিয়া ট্রাম্প?

3:13 AM Posted by স্বপ্নের ব্যবচ্ছেদ No comments
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী মেলেনিয়া ট্রাম্প। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলে মেলেনিয়া হবেন ফার্স্ট লেডি। তো, ফার্স্ট লেডি হিসেবে তিনি কেমন হবেন, তা নিয়ে নানা জল্পনাকল্পনা চলাটাই স্বাভাবিক। একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে ট্রাম্প যেমন আলোচিত-সমালোচিত, তাঁর সঙ্গী মেলেনিয়াও কম যান না!
মেলেনিয়া ট্রাম্প কে, কীভাবে তাঁর উত্থান ঘটল এবং ফার্স্ট লেডি হলে তিনি কেমন হবেন, তা নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি অনলাইন।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেলেনিয়ার জন্ম স্লোভেনিয়ার ছোট্ট শহর সেভনিকায়। এটি রাজধানী লুবিয়ানা থেকে তা ঘণ্টা খানেকের পথ। ১৯৭০ সালের এপ্রিলে তাঁর জন্ম। তাঁর বাবা মেয়র দপ্তরে কাজ করতেন, পরে সফল গাড়ি ব্যবসায়ী হন। তাঁর মা পোশাকের নকশাকার হিসেবে কাজ করতেন। এখন অবশ্য এই দম্পতি ট্রাম্প-মেলেনিয়ার ছেলে ব্যারনের দেখভালের জন্য বছরের অনেকটা সময় যুক্তরাষ্ট্রে কাটান।
মেলেনিয়ার পেশাগত ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, তিনি লুবিয়ানায় নকশা ও স্থাপত্যবিদ্যা বিষয়ের ওপর ডিগ্রি নিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর রটে যে তিনি প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করার সময়ই বাদ পড়েন। পরে মেলেনিয়ার এই ওয়েবসাইটটির কিছু তথ্য ঘষামাজা করা হয় এবং ওই ওয়েবসাইটটিকে ট্রাম্পের ব্যবসায়িক ওয়েবসাইটের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

১৮ বছর বয়সে মেলেনিয়া ইতালির মিলানের একটি মডেলিং এজেন্সির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। তখন থেকে তিনি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে শুরু করেন। ১৯৯৮ সালে মেলেনিয়ার বয়স যখন ২৮ বছর, তখন নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর প্রথম দেখা হয়। ট্রাম্প তখন মেলেনিয়ার ফোন নম্বর চান। কিন্তু মেলেনিয়া তাঁকে ফোন নম্বর না দিয়ে উল্টো বলেছিলেন, ‘তোমারটা দিয়ে যাও। মন চাইলে আমিই তোমাকে ফোন দেব।’ মেলেনিয়ার মন চেয়েছিল, তিনি ফোন করেছিলেন ট্রাম্পকে। বেশ কয়েক বছর প্রেমের পর ২০০৫ সালে বিয়ে করেন ট্রাম্প-মেলেনিয়া। ২০১১ সালে তাঁদের কোলজুড়ে আসে ছেলে ব্যারন।

ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের সময় মডেল মেলেনিয়ার কিছু ছবি চরম বিতর্কের জন্ম দেয়। সাময়িকীতে প্রকাশিত তাঁর নগ্ন ছবিগুলো প্রচার করে প্রশ্ন তোলা হয়, ‘আপনারা কি এমন ফার্স্ট লেডি চান?’ বলা হয়, ‘আপনারা যদি ট্রাম্পকে নির্বাচিত করেন, তবে প্রথমবারের মতো এমন একজন ফার্স্ট লেডিকে পাবেন, যিনি সাময়িকীতে নিজের নগ্ন ছবি প্রকাশ করেছেন।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকান দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পর তাঁর স্ত্রী মেলেনিয়া ট্রাম্প যে বক্তব্য দেন, তা বর্তমান ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার বক্তব্য থেকে চুরি করা বলে খবর রটে। মূলধারার গণমাধ্যমগুলো, অনুচ্ছেদ ধরে ধরে দুজনের বক্তব্যের মিলগুলো তুলে ধরে খবর প্রকাশ করে।

তবে বিতর্ক এখানেই থেমে থাকেনি। ট্রাম্পের সঙ্গে বিয়ের আগে মেলেনিয়া যৌনকর্মী ছিলেন—ব্রিটিশ সংবাদপত্র ডেইলি মেইল ও মার্কিন ব্লগার ওয়েবস্টার টারপ্লি এমন তথ্য প্রকাশ করেন। এরপর ভীষণ চটে যান তিনি। ‘মিথ্যা খবর ও মন্তব্য’ প্রকাশ করার জন্য ডেইলি মেইল ও ওই ব্লগারের বিরুদ্ধে ১৫ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করেন ট্রাম্প-পত্নী। তবে ডেইলি মেইল ও ওই ব্লগার তাঁকে নিয়ে লেখা প্রতিবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

স্লোভেনিয়ান, ফরাসি, জার্মান ও ইংরেজিতে কথা বলায় দক্ষ মেলেনিয়ার নিজস্ব ব্র্যান্ডের গয়নার ব্যবসার আছে। তিনি নিজেরটা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চান। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাজনীতি ও নীতিনির্ধারণী বিষয়ে তিনি থাকতে চান না। এই কাজ তাঁর স্বামী করুক, সেটাই তিনি চান। তবে তাঁর ইচ্ছা, তিনি বেটি ফোর্ড বা জ্যাকি কেনেডির মতো ফার্স্ট লেডি হবেন। এই সাবেক দুই ফার্স্ট লেডি তাদের ফ্যাশন সচেতনতার জন্য বেশ পরিচিত ছিলেন।

মেলেনিয়াকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি অন্য ফার্স্ট লেডিদের মতো স্বামীকে পরামর্শ দেওয়ার কাজ করবেন কি না? জবাবে তিনি বলেন, তিনি তাঁর স্বামীকে নানা বিষয়ে পরামর্শ দেন। তবে কী পরামর্শ দেন, তা তিনি প্রকাশ্যে বলতে চান না। কারণ, তিনি চান সেগুলো তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই থাকুক। অভিবাসীবিরোধী মনোভাবের জন্য ট্রাম্প বেশ সমালোচিত। অথচ তাঁর তৃতীয় স্ত্রী মেলেনিয়ার জন্মভূমি স্লোভেনিয়া। একজন অভিবাসী হিসেবে মেলেনিয়া ট্রাম্পের এই ভূমিকাকে কীভাবে দেখেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে তিনি ঠিকঠাক সব কাগজপত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থেকেছেন। আইন মেনে চলেছেন। নিয়মিত ভিসা হালনাগাদ করেছেন। ২০০৬ সালে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব পান। তাঁর স্বামী অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বলেছেন, বৈধদের বিরুদ্ধে নয়—এমনটাই তাঁর ভাষ্য।

ব্রণ বিদায়

3:03 AM Posted by স্বপ্নের ব্যবচ্ছেদ No comments
সব ধরনের ত্বকেই ব্রণ হতে পারে। তবে ছেলে ও মেয়েদের ব্রণের কারণ ভিন্ন। মিল বলতে শুধু বয়ঃসন্ধি। এই সময়ে ছেলে ও মেয়ে সবার ত্বকেই ব্রণ হয়ে থাকে। তবে ছেলেদের ত্বকে শুধু যে কৈশোরে ব্রণ হয় তেমনটা না, তরুণদের ত্বকেও থাকে এই সমস্যা।
ঢাকার হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের যৌন ও চর্মরোগ বিভাগের অধ্যাপক আফজালুল করিম বলেন, ‘শরীরে হরমোন এবং ব্যাকটেরিয়ার ইনফ্লুয়েন্সে ব্রণ হয়। বয়সের সন্ধিক্ষণে যখন শরীরে হরমোন আসে, তখন গ্ল্যান্ডগুলো বেশি কাজ করে। আর সেখান থেকে ব্রণ তৈরি হয়। এ ছাড়া যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তাদের মুখে ব্রণ হয় বেশি। তাই কিশোর বয়সের পরেও ছেলেদের মুখে ব্রণ দেখা যায়।’
বংশপরম্পরার মাধ্যমেও ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সাধারণত ছেলেরা ত্বকের যত্ন খুব কম নেয়। তবে মুখে ব্রণ হলে কিছুটা সচেতন থাকা জরুরি। হেয়ারোবিক্সের রূপ পরামর্শক শাদীন মাহবুব বলেন, ‘যাদের মুখে ব্রণ আছে তারা কিছুতেই নখ দিয়ে সেগুলো গলানোর চেষ্টা করবেন না। সকালে ও রাতে মুখ পরিষ্কার রাখতে অ্যালকোহল-মুক্ত ক্লিনজার ব্যবহার করুন। তবে স্ক্র্যাব ব্যবহার করার দরকার নেই।’
ব্রণ সারাতে
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চললে আপনার ব্রণের সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে সহজেই। আফজালুল করিম মনে করেন, চিকিৎসা করিয়ে যেমন ব্রণ সারানো যায় আবার চিকিৎসা না করেও সেটা সারানো সম্ভব। তবে মুখে যদি খুব বেশি ব্রণ থাকে, তাহলে চিকিৎসা নিলে দাগ থাকবে না। ব্রণ মুখে শেভ করার সময়ে বিশেষ সতর্ক থাকুন। ব্লেডে ব্রণ কেটে ইনফেকশন হতে পারে। তাই সেভের পর অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম ব্যবহার করুন।
শাদীন মাহবুরের পরামর্শ হলো, ত্বক বেশি তৈলাক্ত হলে জেল ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। আর ত্বক শুষ্ক হলে বেছে নিন ক্রিম ময়েশ্চারাইজার। সপ্তাহে একবার এক্সফ্লোয়েটিং ফেসিয়াল করালে ভালো উপকার পাবেন। ফেসিয়ালের সময়ে লেজার ও লাইট থেরাপি নিতে পারেন। মুখ ধোয়ার অভ্যাস করুন। টুথপেস্ট আঙুলে নিয়ে ব্রণের ওপর লাগান, ব্রণ কমে যাবে। এ ছাড়া পাকা টমেটো পাতলা করে কেটে নিয়ে এর রস মুখে লাগিয়ে ২ মিনিট পর কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন, ব্রণ সেরে যাবে। প্রতিদিন কমপক্ষে আট গ্লাস পানি খান। তবে ব্রণে মুখ ভরে গেলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

Saturday, September 3, 2016

ডেঙ্গুজ্বর ও প্লাটিলেট নিয়ে আতঙ্ক

1:16 PM Posted by স্বপ্নের ব্যবচ্ছেদ No comments
প্রথমেই আসুন, জেনে নিই, প্লাটিলেট কী এবং এটি কমে গেলেই বা কী? প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকা রক্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ কণিকা, যা রক্ত জমাট বাঁধার জন্য জরুরি। রক্তে স্বাভাবিক প্লাটিলেটের সংখ্যা হলো প্রতি ঘন মিমি রক্তে দেড় লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ। নানা কারণেই এর সংখ্যা কমে আসতে পারে, আর তখন রক্তক্ষরণের ঝুঁকি যায় বেড়ে। যেমন প্লাটিলেট এক লাখের কম হলে অস্ত্রোপচার না করারই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেননা কাটা-ছেঁড়া হলে রক্তক্ষরণ বন্ধ করা কঠিন হয়। প্লাটিলেট ২০ হাজারের নিচে নেমে এলে কোনো আঘাত ছাড়াই রক্তক্ষরণ হতে পারে, যেমন নাক বা দাঁতের মাড়িতে রক্তপাত, মলের সঙ্গে রক্ত ইত্যাদি। প্লাটিলেট ১০ হাজারের নিচে চলে গেলে দেহের ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যেমন অন্ত্র, মস্তিষ্ক, কিডনিতে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
ডেঙ্গুজ্বরে এই প্লাটিলেট কমে যাওয়ার ব্যাপারটা কিন্তু খুবই সাময়িক। তিন দিনের মধ্যেই এই সংখ্যা আবার স্বাভাবিকে চলে আসে। এ ছাড়া পরীক্ষাগারে যন্ত্রের সাহায্যে যে প্লাটিলেট মাপা হয়, তা সঠিক সংখ্যার চেয়ে সাধারণত কম দেখায়। কেননা এই কণিকাগুলো গুচ্ছ আকারে রক্তে ভেসে বেড়ায় বলে যন্ত্র নিখুঁতভাবে সঠিক সংখ্যা গুনে বের করতে পারে না। ম্যানুয়ালি বা হাতেকলমে অণুবীক্ষণযন্ত্রের সাহায্যে গুনলেও গণনকারীভেদে তারতম্য হবেই। তাই ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট ১০, ২০, ৩০ হাজার—যা-ই হোক, তা নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। মনে রাখবেন, ১০ হাজারের নিচে খুব অল্পসংখ্যক রোগীরই যেতে পারে। আরেকটি কথা, প্লাটিলেট সংগ্রহ ও দেহে প্রবেশ করানোর গোটা পদ্ধতি যেমন জটিল, তেমনি ব্যয়সাপেক্ষ। কিন্তু এক ইউনিট প্লাটিলেট ভরলে বড়জোর ১০ হাজার বাড়তে পারে, চিকিৎসাক্ষেত্রে যাতে কোনো লাভ হয় না। তাই প্লাটিলেট নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা করে লাভ নেই। ডেঙ্গুজ্বরে যথাযথ বিশ্রাম, যথেষ্ট পরিমাণে পানি ও তরল খাবার গ্রহণই মূল চিকিৎসা।
প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: খাবার গ্রহণের সময় জিব জ্বালা করলে এর কারণ কী হতে পারে?
উত্তর: বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জিবে ঘা থাকলে খাবার গ্রহণের সময় জ্বালা করতে পারে। ছত্রাক সংক্রমণ, রক্ত ও ভিটামিনের স্বল্পতা, অনেক সময় প্রদাহজনিত কারণে জিবে ঘা হয় এবং খাবার সময় জ্বলে। এরÿসঠিক কারণ জেনে নিয়ে চিকিৎসা করানো উচিত।
ডা. আ ফ ম হেলালউদ্দিন
মেডিসিন বিভাগ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ

ভুল বিশ্বাসে অন্যকে সন্দেহ?

1:07 PM Posted by স্বপ্নের ব্যবচ্ছেদ No comments
সিজোফ্রেনিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি মানসিক রোগ। সাধারণত ১৬ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে সিজোফ্রেনিয়ার লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে চিন্তা ও আচরণের অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। কারও এ ধরনের রোগ হচ্ছে কি না, তা বুঝতে কিছু লক্ষণ খেয়াল করতে হবে:
* তারা বিশ্বাস করে, তাদের চিন্তা সবাই জেনে যাচ্ছে, কিংবা মনের মধ্যে অন্য কারও চিন্তা অনুপ্রবেশ করছে।
* হ্যালুসিনেশন: অনুপস্থিত ব্যক্তির কথা শোনা, সামনে কিছু নেই অথচ কিছু দেখা এবং গায়ে কিছুর স্পর্শ অনুভব করা। সে বিশ্বাস করে, এক বা একাধিক ব্যক্তি তাকে নিয়ে, তার সম্পর্কে বিভিন্ন কথা বলে।
* অহেতুক সন্দেহ ও ভ্রান্ত বিশ্বাস (ডিল্যুশন): ভুল বিশ্বাসের কারণে অন্যদের সন্দেহ করা, যেন সবাই তার ক্ষতি করবে।
* কখনো কখনো বিশ্বাস করে—তার চিন্তা, আচরণ—কোনো কিছুই তার নিজের নয়। বাইরের কোনো শক্তি তাকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
* অন্যের সঙ্গে কথা বলতে চায় না, নিজের ভেতর গুটিয়ে থাকে। কথায় ও আচরণে অস্বাভাবিকতা, অসংলগ্নতা; কোনো কারণ ছাড়াই উত্তেজিত হয়ে ওঠা।
* অনেক সময় একা একা কথা বলা কিংবা একা একা কোনো কারণ ছাড়াই হাসি-কান্না, ঘুমের সমস্যা।
* কোনো মানসিক সমস্যা আছে, এটা রোগী সাধারণত স্বীকারই করতে চায় না।
এই রোগের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি। চিকিৎসায় অ্যান্টিসাইকোটিক-জাতীয় ওষুধ পর্যাপ্ত মেয়াদ ও পরিমিত মাত্রায় প্রয়োগ করা হয়। দীর্ঘদিন ওষুধ সেবনের পাশাপাশি পারিবারিক সহযোগিতা, সামাজিক সমর্থন ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন হয়। ওষুধ মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া কিংবা অনিয়মিতভাবে ব্যবহার করা চলবে না। নিয়মিত পর্যবেক্ষণেরও প্রয়োজন আছে। সিজোফ্রেনিয়ার রোগীরা নিজের ভালোমন্দ বুঝতে অক্ষম বলে চিকিৎসায় পরিবার ও স্বজনদের ভূমিকা অনেক। ধৈর্য ধরে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট

ছোট হয়ে আসছে সুন্দরবন

12:59 PM Posted by স্বপ্নের ব্যবচ্ছেদ No comments
সুন্দরবন ক্রমাগত ছোট হয়ে আসছে। বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশের সুন্দরবনেই ভূখণ্ড কমছে আর জলাভূমি বাড়ছে। সেই সঙ্গে সুন্দরবনে সুন্দরীসহ সব ধরনের গাছের সংখ্যাও কমছে।
বাংলাদেশের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ট্রাস্টি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সুন্দরবনের ভূমি ও উদ্ভিদের পরিবর্তনের ধরন নিয়ে করা দুটি গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
সিইজিআইএসের ‘সুন্দরবন জয়েন্ট ল্যান্ডস্কেপ ন্যারেটিভ-২০১৬’ শীর্ষক ওই গবেষণায় দেখা গেছে, গত ২৪০ বছরে সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ৬ হাজার বর্গকিলোমিটার কমেছে। ১৭৭৬ সালে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ছিল ১১ হাজার ২৫৮ বর্গকিলোমিটার। ২০১৬ সালে তা কমে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটারে নেমে এসেছে।
গত ২৭ বছরে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ৭৬ বর্গকিলোমিটার কমেছে, আর জলাভূমি অংশে আয়তন বেড়েছে ৩০ বর্গকিলোমিটার। মূলত সুন্দরবনে নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের কারণে আয়তন কমেছে বলে গবেষণায় বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সিইজিআইএসের সুন্দরবন-বিষয়ক গবেষণার প্রধান ও ডেপুটি নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা এ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সুন্দরবনের মানচিত্র, স্যাটেলাইট ইমেজ এবং সরেজমিনে অনুসন্ধানের মাধ্যমে গবেষণাটি করেছি। সুন্দরবনের জন্য হুমকিগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি, যাতে তা রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।’
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আবদুল আজিজ এবং বন বিভাগের বণ্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন সংরক্ষক অসিত রঞ্জন পাল যৌথ গবেষণা ‘বাংলাদেশ সুন্দরবন: পরিবেশ ও জৈব সম্পদের বর্তমান অবস্থা’ শীর্ষক আরেকটি গবেষণা করেছেন। এতে দেখা গেছে, সুন্দরবনে ১৯৫৯ সালে প্রতি হেক্টরে ২৯৬টি গাছ ছিল। গাছের সংখ্যা নিয়মিতভাবে কমে ১৯৮৩ সালে হেক্টরপ্রতি গাছের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১৮০-তে। ১৯৯৬ সালে তা আরও কমে হয় ১৪৪। এভাবে চলতে থাকলে ২০২০ সালের মধ্যে গাছের সংখ্যা নেমে আসবে হেক্টরপ্রতি ১০৯টিতে।
১৯৫৯ সালে প্রতি হেক্টরে সুন্দরবনের প্রধান গাছ সুন্দরীর সংখ্যা ছিল ২১১। কিন্তু তা ১৯৮৩ সালে ১২৫ ও ১৯৯৬ সালে ১০৬-তে নেমে আসে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০২০ সালে হেক্টরপ্রতি সুন্দরীগাছের সংখ্যা নেমে আসবে ৮০-তে।
অবশ্য এই দুই গবেষণার ফলাফলের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে বন বিভাগ। গবেষণা দুটির ফলাফল তুলে ধরে সংস্থাটির মতামত জানতে চাইলে প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুস আলী প্রথম আলোকে বলেছেন, সুন্দরবনের আয়তন তো কমেনি, বরং বেড়েছে। সেখানে গাছের সংখ্যা বাড়ছে। তাই এসব গবেষণার সঙ্গে তাঁরা একমত নন।
সিইজিআইএসের গবেষণায় ভারতীয় অংশে সুন্দরবনের আয়তন ৫ হাজার ১২৪ বর্গকিলোমিটার কমেছে বলে উল্লেখ করে বলা হয়, গত ২৭ বছরে ভারতীয় অংশে ভূমির আয়তন কমেছে ৬২ বর্গকিলোমিটার এবং জলাভূমির আয়তন ৫৮ কিলোমিটার বেড়েছে।
গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, সুন্দরবনের আয়তন যা বলা হয়, বাস্তবে তার চেয়ে কম। বর্তমানে বাংলাদেশ সুন্দরবন অংশের মোট আয়তন ৫ হাজার ৩২০ বর্গকিলোমিটার। আর ভারতীয় অংশের আয়তন ৩ হাজার ৯৪ বর্গকিলোমিটার।
তবে বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশের সরকারি নথি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাবে সুন্দরবনের আয়তন বলা হয় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার। অর্থাৎ বাংলাদেশ অংশে ছয় হাজার ও ভারতীয় অংশের আয়তন চার হাজার বর্গকিলোমিটার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও নদীবিশেষজ্ঞ কল্যাণ রুদ্রের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সুন্দরবনের মানচিত্রের বদল নিয়ে করা আমার গবেষণায়ও আয়তন কমে যাওয়ার চিত্র দেখতে পেয়েছি। বিশেষ করে সুন্দরবনের যেসব অংশে মানুষের বসতি বেশি ও গাছ কম, সেখানে বেশি করে ভাঙন হচ্ছে।’ ১৯১৭ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সুন্দরবনের ভারতীয় অংশে ৪২০ বর্গকিলোমিটার ভূমি কমেছে বলে জানান তিনি।
সিইজিআইএসের গবেষণায় দেখা গেছে, ১৭৭৬ সালে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ছিল ১১ হাজার ২৫৮ বর্গকিলোমিটার। ২০১৫ সালে হিসাব করে দেখা গেছে, তা কমে হয়েছে ৫ হাজার ৪৬৭ বর্গকিলোমিটার। সুন্দরবন ঘিরে নানা ধরনের বাঁধ, পোল্ডারসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কারণে সুন্দরবনের আয়তন কমে আসছে। একই অবস্থা ভারতীয় সুন্দরবনের ক্ষেত্রেও। ১৭৭৬ সালে ভারতীয় অংশে সুন্দরবনের আয়তন ছিল ৮ হাজার ৭৩৩ বর্গকিলোমিটার। ২০১৫ সালের হিসাবে তা কমে ৩ হাজার ৫২ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে।
উদ্ভিদ নিয়ে করা গবেষণায় বলা হয়, সুন্দরবনে গাছের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার জন্য লবণাক্ততা দায়ী। এতে বলা হয়েছে, ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর শুষ্ক মৌসুমে সুন্দরবন প্রতি সেকেন্ডে শূন্য থেকে ১৭০ ঘনমিটার পলিযুক্ত মিঠা পানি গ্রহণ করেছে। সেখানে লবণাক্ততার পরিমাণ ঠিক রাখার জন্য কমপক্ষে ১৯৪ দশমিক ৪ ঘনমিটার পানিপ্রবাহ প্রয়োজন। কম পানিপ্রবাহ থাকায় সাগরের লবণাক্ত পানি বনের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। যদিও ১ শতাংশের বেশি লবণাক্ততা থাকলে সুন্দরীগাছের বেঁচে থাকা কঠিন।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, গঙ্গা নদীর মিঠা পানি গড়াই হয়ে পশুর নদ ও শিবসা নদীর মাধ্যমে সুন্দরবনে প্রবাহিত হয়। ফারাক্কা বাঁধের পর পানিপ্রবাহ কমে গেছে। ফলে মিঠা পানির প্রবাহ কম থাকায় লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়ছে বনের মধ্যে। এ কারণে ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ বেঁচে থাকতে পারছে না। এর সঙ্গে সাইক্লোন ও বিভিন্ন কারণে বনভূমি ভেঙে ছোট ছোট নদী তৈরি হয়েছে।
জানতে চাইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত সার্বিক বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সুন্দরবনের প্রতিবেশগত ব্যবস্থায় একটা পরিবর্তন আমরা দেখতে পাচ্ছি। লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার কারণে সুন্দরী গাছ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বনের বিভিন্ন অংশে অনেকদিন ধরেই ভাঙন লক্ষ করা যাচ্ছে। সুন্দরবন রক্ষা করতে চাইলে সবগুলো ঝুঁকি আমলে নিয়ে কাজ করতে হবে।’
ভারতের অংশে আয়তন কমার চিত্র
১৭৭৬ সালে ছিল ৮,৮৩৩ বর্গ কিমি
১৮৪১ সালে ছিল ৮,৪৬৬ বর্গ কিমি
২০১৫ সালে ৩,০৫২ বর্গ কিমি
বাংলাদেশ অংশে আয়তন কমার চিত্র
১৭৭৬ সালে ছিল ১১,২৫৬ বর্গ কিমি
১৮৪১ সালে ছিল ৯,২৭৯ বর্গ কিমি
২০১৫ সালে ৫,৪৬৭ বর্গ কিমি

ভারত
৩,০৫২
বর্গ কিমি
বাংলাদেশ
৫,৪৬৭
বর্গ কিমি
কমছে সুন্দরীগাছ
১৯৫৯ সালে হেক্টরপ্রতি
সুন্দরীগাছ ছিল ২১১টি। কমতে কমতে ২০২০ সালে তা ৮০-তে নেমে আসার আশঙ্কা

শ্রেষ্ঠত্বের শপথ নিয়েই মাঠে নামত কৃষ্ণারা

12:38 PM Posted by স্বপ্নের ব্যবচ্ছেদ No comments
ম্যাচ-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে নিজের অনুভূতি বর্ণনা করতে গিয়ে গলাটা একটু ধরে এল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ দলের অধিনায়ক কৃষ্ণা রানী সরকারের। কত কষ্টের ফল এই গৌরব। এই অবস্থানে আসতে গিয়ে কত সংগ্রাম! রোদ-ঝড়-বৃষ্টির চোখ রাঙানি এড়িয়ে কঠোর প্রশিক্ষণ। মেপে মেপে খাওয়া। যে বয়সে হাওয়ায় উড়ে বেড়াবার কথা, সেই বয়সেই কত নিয়মের বেড়াজাল। ধরা গলাতেই কৃষ্ণা বলল নিজের কথাটা, ‌‌‍‌‌‌‌‘কত ভালো লাগছে, সেটা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। অনেক কষ্টের পর আমরা এই পর্যায়ে এসেছি।’
ইরানের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়। এরপর সিঙ্গাপুরকে ৫-০-তে উড়িয়ে দেওয়া। সর্বশেষ ম্যাচটিতে কিরগিজস্তানের বিপক্ষে ১০-০ গোলে জয়ে নিজেদের অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। চীনা তাইপের দিকে আলাদা দৃষ্টিই ছিল বাংলাদেশের মেয়েদের। সতর্ক দৃষ্টি। মহিলা ফুটবলের র‍্যাঙ্কিংয়ের দিকে তাকালে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে তাইপেই (তাইপে ৩৮, বাংলাদেশ ১২২)। অবকাঠামো, আর সুযোগ সুবিধার দিক থেকেও এগিয়ে তারা। বাছাইপর্বে খেলতে আসার আগে তাইপের প্রস্তুতিটাও ছিল আটঘাট বাঁধা। প্রতিযোগিতায় আজকের ম্যাচের আগে প্রতিটিতেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে তারা। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশ ৪-২ গোলে জিতেই চীনে আগামী বছর অনুষ্ঠেয় চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করল। এই ফল বাংলাদেশের মেয়েদের আত্মবিশ্বাসের ফসল।
ম্যাচের ১০ মিনিটেই পিছিয়ে পড়েছিল কৃষ্ণা, সানজিদা, মার্জিয়া, শামসুন্নাহাররা। খেলার ধারার বিপরীতে পিছিয়ে পড়ে একটু কী চাপে পড়ে গিয়েছিল দল? কৃষ্ণা অবশ্য তা স্বীকার করলেন না, ‌‘আমি জানতাম পিছিয়ে পড়লেও আমাদের হাতে ম্যাচে ফেরার জন্য পুরো ৯০ মিনিট ছিল।’
কৃষ্ণার এই মনোভাব, পুরো দলেরই ভাবনা। পিছিয়ে পড়ে আরও উজ্জীবিত ফুটবল খেলল দল। দুটি পেনাল্টিও আদায় হলো প্রথম ৪৫ মিনিটের মধ্যেই। বাকি গল্পটা তো সকলেরই জানা।
কৃষ্ণাদের মধ্যে একটা স্বপ্ন ছিল। ১৬ বছরের এই কিশোরীরা প্রতিটি ম্যাচের আগেই শপথ নিত। কী সেই শপথ? দেশকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার শপথ! কৃষ্ণা বললেন, ‌‘আমরা প্রতিটি ম্যাচের আগে দেশকে কিছু দেওয়ার শপথ নিতাম। আমরা দেশকে কিছু দিতে পেরেছি দেখে খুব ভালো লাগছে।’
কৃষ্ণাদের লক্ষ্যটা এখন দিগন্ত প্রসারী। এএফসি অনূর্ধ্ব ১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্তপর্বে বাংলাদেশ। মানে এই পর্যায়ে এশিয়ার মেয়েদের ফুটবলে অন্যতম সেরা দল বাংলাদেশ। কৃষ্ণা বললেন, ‌‘লক্ষ্যটা অবশ্যই অনেক বড়। যেহেতু চূড়ান্তপর্বে উঠে গেছি। তাই সেরাই হতে চাই।’
কৃষ্ণারা যদি সেরা হওয়ারই শপথ নিয়ে থাকেন। তাহলে জাপান-কোরিয়া-চীনের মতো এশিয়ার বড় ফুটবল-শক্তিকে বাংলাদেশকে নিয়ে একটু আলাদাভাবেই ভাবতে হবে!

মীর কাসেমের দাফন হবে মানিকগঞ্জে, জানালেন স্ত্রী

12:29 PM Posted by স্বপ্নের ব্যবচ্ছেদ No comments
ফাঁসির কথা জানানো হয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মীর কাসেম আলীকে। তাঁকে মানিকগঞ্জে দাফন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার। আজ শনিবার সন্ধ্যায় মীর কাসেমের সঙ্গে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে প্রথম আলোকে এ কথা জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুন।
আয়েশা খাতুন বলেন, ‘তিনি (মীর কাসেম) আমাকে বলেছেন, তাঁকে ফাঁসির কথা জানানো হয়েছে।’ মীর কাসেম শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে আয়েশা খাতুন বলেন, শেষ মুহূর্তেও ছেলের সঙ্গে দেখা না হওয়ায় আক্ষেপ করেছেন তিনি।
পরিবারের দাবি, মীর কাসেমের ছেলেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে।
মীর কাসেমের স্ত্রী জানান, মীর কাসেমের ভাই মানিকগঞ্জে একটি জমি কিনে রেখেছিলেন। সেখানেই তাঁকে দাফন করা হবে। এর আগে মীর কাসেমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তাঁর পরিবারের সদস্যদের ডাকে কারা কর্তৃপক্ষ। আজ বেলা ৩টা ৩৫ মিনিটে পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাতের জন্য কারাগারে প্রবেশ করেন। বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে তাঁরা সোয়া চারটায় দেখা করার সুযোগ পান। সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় পরিবারের সদস্যরা কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন।
আয়েশা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, পরিবার ও নিকট আত্মীয়সহ ২২ জন দেখা করতে যান। ছোট ছোট দলে ধাপে ধাপে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়। সব শেষে দেখা করেন স্ত্রী, দুই মেয়ে, ছেলের বউসহ আটজন।
সূত্রমতে, ফাঁসি কার্যকরের নির্বাহী আদেশ কারাগারে পৌঁছে যাওয়ায় যেকোনো সময় মীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে।

আমাদের মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার সূতালড়ি ইউনিয়নের মুন্সীডাঙ্গী গ্রামে জন্ম নেন মীর কাসেম আলী। বাবা তৈমুর আলীর চাকরির সুবাদে শিশুকালে তিনি চট্টগ্রামে যান। মুন্সীডাঙ্গীতে গ্রামের বাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ার পর তিনি হরিরামপুরের চালা ইউনিয়নের চালা গ্রামে ৫০ শতক জমি কেনেন। সেখানে ঘরবাড়ি না থাকলেও তিনি একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন।
এদিকে মীর কাসেমকে মানিকগঞ্জে দাফন করার খবরে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

মানিকগঞ্জের পথে মীর কাসেমের মরদেহ

12:27 PM Posted by স্বপ্নের ব্যবচ্ছেদ No comments
জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে মানিকগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মরদেহবাহী তিনটি অ্যাম্বুলেন্সকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

এর আগে রাতে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ১০ টা ৩০ মিনিটে জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় এই নেতার মৃত্যুদণ্ড গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে কার্যকর করা হয়।
আমাদের মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মীর কাসেমের দাফন উপলক্ষে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের চালা গ্রামে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে মীর কাসেমের স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুন, ভাবি ফেরদৌস আরা, দুই মেয়ে, দুই ছেলের বউ, ভাগনি, ভাতিজাসহ ৪০ জন স্বজন চারটি মাইক্রোবাসে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের চালা ইউনিয়নের চালা গ্রামে পৌঁছেছেন। তবে পুলিশ গণমাধ্যম কর্মীদের চালা গ্রামের চার কিলোমিটার দূরে ঘিওর উপজেলার কলতাবাজারে আটকে দিয়েছেন। শুধু মীর কাসেমের পরিবারের সদস্যদের চালা গ্রামে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার সূতালড়ি ইউনিয়নের মুন্সীডাঙ্গী গ্রামে জন্ম নেন মীর কাসেম আলী। বাবা তৈমুর আলীর চাকরির সুবাদে শিশুকালে তিনি চট্টগ্রামে যান। মুন্সীডাঙ্গীতে গ্রামের বাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ার পর তিনি হরিরামপুরের চালা ইউনিয়নের চালা গ্রামে ৫০ শতক জমি কেনেন। সেখানে ঘরবাড়ি না থাকলেও তিনি একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন।
ফাঁসি কার্যকরের পর মীর কাসেমের ময়নাতদন্ত শেষ হয় বলে জানান কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের (পার্ট-২) এর জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক।
মীর কাসেমের স্ত্রী জানান, মীর কাসেমের ভাই মানিকগঞ্জে একটি জমি কিনে রেখেছিলেন। সেখানেই তাঁকে দাফন করা হবে। এর আগে মীর কাসেমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তাঁর পরিবারের সদস্যদের ডাকে কারা কর্তৃপক্ষ। আজ বেলা ৩টা ৩৫ মিনিটে পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাতের জন্য কারাগারে প্রবেশ করেন। বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে তাঁরা সোয়া চারটায় দেখা করার সুযোগ পান। সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় পরিবারের সদস্যরা কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন।
আয়েশা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, পরিবার ও নিকট আত্মীয়সহ ২২ জন দেখা করতে যান। ছোট ছোট দলে ধাপে ধাপে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়। সব শেষে দেখা করেন স্ত্রী, দুই মেয়ে, ছেলের বউসহ আটজন।

বাঙালি খান’ মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকর

12:24 PM Posted by স্বপ্নের ব্যবচ্ছেদ No comments
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় এই নেতার মৃত্যুদণ্ড গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক।
এর মধ্য দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শাস্তি দিয়ে কলঙ্কমোচনের পথে এগিয়ে গেল দেশ। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে এটি ফাঁসি কার্যকরের ষষ্ঠ ঘটনা। তাঁদের পাঁচজন জামায়াতে ইসলামীর এবং একজন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা।
এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া একাত্তরের ভয়ংকর খুনে বাহিনী আলবদর নেতা মতিউর রহমান নিজামী, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে।
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর ৪০ নম্বর কনডেমড সেলে ছিলেন মীর কাসেম। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কাশিমপুর কারাগারে এই প্রথম কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো।

মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকরের নির্বাহী আদেশ কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর পরই ফাঁসি কার্যকরের সব প্রস্তুতি নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। সকাল থেকে কাশিমপুর কারাগারের চারপাশে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পোশাকে ও সাদাপোশাকে কাজ করছেন গোয়েন্দা সদস্যরা। নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা ও গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে সন্ধ্যায় মীর কাসেমের সঙ্গে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে শেষ দেখা করেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে প্রথম আলোকে তাঁর স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুন বলেন, ‘তিনি (মীর কাসেম) আমাকে বলেছেন, তাঁকে ফাঁসির কথা জানানো হয়েছে। মানিকগঞ্জে তাঁকে দাফন করা হবে।’
মীর কাসেম শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে আয়েশা খাতুন বলেন, শেষ মুহূর্তেও ছেলের সঙ্গে দেখা না হওয়ায় আক্ষেপ করেছেন তিনি।

মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন গত মঙ্গলবার খারিজ করে দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সকালে এই রায় ঘোষণার পর বিকেলেই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এর মধ্য দিয়ে আইনি লড়াইয়ের শেষ ধাপের ইতি ঘটে। রিভিউ খারিজের মধ্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর এই কেন্দ্রীয় নেতার দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা না চাওয়ায় তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়।

যেভাবে উত্থান
মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতা মীর কাসেম একাত্তরে ছিলেন দলটির ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের চট্টগ্রাম শহর শাখার সভাপতি। ট্রাইব্যুনালের রায় অনুসারে, একই সঙ্গে তিনি একাত্তরের কুখ্যাত গুপ্তঘাতক আলবদর বাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান ছিলেন। তাঁর নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় মুক্তিযুদ্ধকালে চট্টগ্রাম শহরের আন্দরকিল্লা এলাকার ডালিম হোটেলে স্থাপিত হয় আলবদর বাহিনীর ক্যাম্প ও নির্যাতনকেন্দ্র। একাত্তরে চট্টগ্রামে এই ডালিম হোটেলকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হতো সব ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ, যার তত্ত্বাবধানে ছিলেন আলবদর নেতা মীর কাসেম আলী। মুক্তিযুদ্ধের সময় ডালিম হোটেল মানুষের কাছে পরিচিতি পায় হত্যাপুরী হিসেবে, আর নৃশংসতার জন্য মীর কাসেমের পরিচয় হয় ‘বাঙালি খান’।

মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭৭ সালে ইসলামী ছাত্র সংঘ নাম বদল করে ছাত্রশিবির নামে রাজনীতি শুরু করে। মীর কাসেম ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ওই সময় থেকে তিনি জামায়াতের রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে দলটির অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্ত করার জন্য উদ্যোগ নিতে শুরু করেন। ১৯৮০ সালে তিনি রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামী নামের একটি বিদেশি বেসরকারি সংস্থার এ-দেশীয় পরিচালক হন। এ ছাড়া তিনি দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের চেয়ারম্যান, ইবনে সিনা ট্রাস্টের অন্যতম সদস্য। ধীরে ধীরে তিনি জামায়াতের অর্থের অন্যতম জোগানদাতায় পরিণত হন।

চার বছরের পরিক্রমা

জামায়াতের অর্থের জোগানদাতা হিসেবে পরিচিত মীর কাসেমকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১২ সালের ১৭ জুন গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে ১৪টি অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের রায়ে দুটি অভিযোগে তাঁকে ফাঁসির আদেশ ও আটটি অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর আপিল করেন মীর কাসেম। চলতি বছরের ৮ মার্চ আপিলের রায়ে ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিমকে হত্যার (১১ নম্বর অভিযোগ) দায়ে মীর কাসেমের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। অন্য ছয়টি অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড বহাল থাকে। আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় ৬ জুন প্রকাশিত হয়। রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে ১৯ জুন আবেদন করেন মীর কাসেম। এই রিভিউ আবেদনের ওপর ২৪ আগস্ট শুনানি শুরু হয়।

যে অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড

আপিল বিভাগের রায়ে ১১ নম্বর অভিযোগে মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে। এই অভিযোগের বর্ণনা অনুসারে, ১৯৭১ সালে ঈদুল ফিতরের পরের যেকোনো একদিন মীর কাসেমের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে আলবদর বাহিনীর সদস্যরা চট্টগ্রাম শহরের কোনো এক অজ্ঞাত স্থান থেকে মুক্তিযোদ্ধা জসিমকে অপহরণ করে আন্দরকিল্লার ডালিম হোটেলে নিয়ে যায়। ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁকে সেখানে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের ফলে জসিমের মৃত্যু হলেও আরও পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির লাশসহ তাঁর মৃতদেহ কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

রিভিউ খারিজের যত দিন পর ফাঁসি কার্যকর

আবদুল কাদের মোল্লা
: ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর আবেদন খারিজ হয়, ওই দিন রাতে ফাঁসি কার্যকর হয়।
মুহাম্মদ কামারুজ্জামান: ২০১৫ সালের ৬ এপ্রিল আবেদন খারিজ, ১১ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টায় ফাঁসি কার্যকর হয়।
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী: ২০১৫ সালের ১৮ নভেম্বর আবেদন খারিজ হয়, ২১ নভেম্বর রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ফাঁসি কার্যকর হয়।
আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ: ২০১৫ সালের ১৮ নভেম্বর আবেদন খারিজ হয়, ২১ নভেম্বর রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ফাঁসি কার্যকর।
মতিউর রহমান নিজামী: ২০১৬ সালের ৫ মে আবেদন খারিজ হয়, ১০ মে রাত ১২টা ১০ মিনিটে ফাঁসি কার্যকর হয়।

এক জঙ্গি নিহত ওসিসহ আহত ৩

12:14 PM Posted by স্বপ্নের ব্যবচ্ছেদ No comments
অভিযানে আহত রূপনগর থানার ওসি সৈয়দ সহিদ আলমরাজধানীর রূপনগরে গতকাল শুক্রবার রাতে পুলিশের অভিযানে এক জঙ্গি নিহত ও ওসিসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। পুলিশ বলেছে, নিহত জঙ্গির সাংগঠনিক নাম মুরাদ ওরফে জাহাঙ্গীর। তিনি নব্য জেএমবির ‘প্রশিক্ষক’ এবং সংগঠনে নিহত জঙ্গি তামিম চৌধুরীর পরেই ছিল তাঁর অবস্থান। নারায়ণগঞ্জে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের পর পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, তামিমের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন এই মুরাদ।

অভিযানে আহত পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ সহিদ আলম, পরিদর্শক (তদন্ত) শাহীন ফকির ও উপপরিদর্শক (এসআই) মমিনুর রহমান। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁদের স্কয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মোখলেসুর রহমান রাতেই ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের অংশ রূপনগরে পুলিশের এই অভিযান। রূপনগর আবাসিক এলাকায় এক জঙ্গি বাসা ভাড়া নিয়েছে—সুনির্দিষ্ট এই তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে ওই এলাকার ৩৩ নম্বর সড়কের ১৪ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালাতে যায় রূপনগর থানার পুলিশ। পুলিশ ওই বাড়ির ষষ্ঠ তলায় গেলে এক জঙ্গি বেরিয়ে এসে পিস্তল দিয়ে পুলিশ সদস্যদের গুলি করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয়। এতে রূপনগর থানার ওসি, পরিদর্শক ও এক উপপরিদর্শক আহত হন। পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়লে ওই জঙ্গি নিহত হন।

মোখলেসুর রহমান বলেন, নিহত জঙ্গির সাংগঠনিক নাম কখনো মুরাদ, কখনো জাহাঙ্গীর, আবার কখনো ওমর। প্রকৃত পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। নিহত জঙ্গি সরকারি কর্মকর্তা কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের আরেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, নিহত জঙ্গির প্রকৃত পরিচয় না জানা গেলেও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জেনেছে, তিনি জঙ্গিদের প্রশিক্ষক ছিলেন।

অভিযানে আহত রূপনগর থানার ওসি সৈয়দ সহিদ আলমরাজধানীর রূপনগরে গতকাল শুক্রবার রাতে পুলিশের অভিযানে এক জঙ্গি নিহত ও ওসিসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। পুলিশ বলেছে, নিহত জঙ্গির সাংগঠনিক নাম মুরাদ ওরফে জাহাঙ্গীর। তিনি নব্য জেএমবির ‘প্রশিক্ষক’ এবং সংগঠনে নিহত জঙ্গি তামিম চৌধুরীর পরেই ছিল তাঁর অবস্থান। নারায়ণগঞ্জে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের পর পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, তামিমের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন এই মুরাদ।

অভিযানে আহত পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ সহিদ আলম, পরিদর্শক (তদন্ত) শাহীন ফকির ও উপপরিদর্শক (এসআই) মমিনুর রহমান। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁদের স্কয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মোখলেসুর রহমান রাতেই ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের অংশ রূপনগরে পুলিশের এই অভিযান। রূপনগর আবাসিক এলাকায় এক জঙ্গি বাসা ভাড়া নিয়েছে—সুনির্দিষ্ট এই তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে ওই এলাকার ৩৩ নম্বর সড়কের ১৪ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালাতে যায় রূপনগর থানার পুলিশ। পুলিশ ওই বাড়ির ষষ্ঠ তলায় গেলে এক জঙ্গি বেরিয়ে এসে পিস্তল দিয়ে পুলিশ সদস্যদের গুলি করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয়। এতে রূপনগর থানার ওসি, পরিদর্শক ও এক উপপরিদর্শক আহত হন। পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়লে ওই জঙ্গি নিহত হন।

মোখলেসুর রহমান বলেন, নিহত জঙ্গির সাংগঠনিক নাম কখনো মুরাদ, কখনো জাহাঙ্গীর, আবার কখনো ওমর। প্রকৃত পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। নিহত জঙ্গি সরকারি কর্মকর্তা কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের আরেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, নিহত জঙ্গির প্রকৃত পরিচয় না জানা গেলেও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জেনেছে, তিনি জঙ্গিদের প্রশিক্ষক ছিলেন।পরিদর্শক (তদন্ত) শাহীন ফকির। গতকাল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তোলা ছবি l প্রথম আলো

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার শেখ মুহাম্মদ মারুফ হাসান বলেন, নিহত জঙ্গি গত ১ জুলাই পরিবারসহ বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। এরপর একসময় তিনি পরিবারকে রেখে একাই এই বাসায় আসেন।

ডিএমপির মিরপুর বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, কয়েক দিন আগে ওই বাড়িতে মুরাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গত ২৮ আগস্ট ওই বাড়িতে গেলে গোয়েন্দা পুলিশ দেখতে পায়, বাসাটি তালা মারা। তবে ভেতরে জিনিসপত্র রয়েছে। এরপর গোয়েন্দারা কোনো কিছুতে হাত না দিয়ে বাড়ির লোকদের বলে আসে, ওই ব্যক্তি জিনিসপত্র নিতে এলে যেন পুলিশ ও ডিবিকে জানানো হয়। ওই জঙ্গি ফিরে এলে বাড়িটি থেকে তাৎক্ষণিক রূপনগর থানা-পুলিশকে জানানো হয়। এরপর পুলিশ অভিযানে যায়। তিনি বলেন, নিহত জঙ্গি ছয়তলায় ভাড়া থাকতেন। পুলিশ ছয়তলায় গিয়ে দরজায় কড়া নাড়লে তিনি অস্ত্র হাতে বেরিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করেন। হামলা করতে করতে তিনি নিচতলায় চলে আসেন। নিচতলায়ই পুলিশের গুলিতে ওই জঙ্গি নিহত হন। রাত একটা পর্যন্ত লাশ সেখানেই পড়ে ছিল।

এদিকে রাত সোয়া নয়টার দিকে আহত তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সৈয়দ সহিদ আলমের পিঠে ও শাহীন ফকিরের দুই কুঁচকিতে গুলি লেগেছে। শাহীন ফকিরের বাঁ বাহু ও মমিনুরের ডান হাতে ধারালো অস্ত্রের জখম রয়েছে।

হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক রকিবুল হাসান বলেন, শাহীন ফকিরের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাঁর অবস্থা গুরুতর। আহত অন্য দুজন বিপদমুক্ত। ঢাকা মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের স্কয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার মো. মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ছুটির দিনের কারণে হাসপাতালে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের চিকিৎসক ছিলেন না। বাধ্য হয়ে তাঁদের স্কয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের এই অভিযান শেষ হয়। অভিযান চলাকালে ওই বাড়ির আশপাশ ঘিরে রাখে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ছাড়া অন্য কাউকে বাড়ির আশপাশে যেতে দেওয়া হয়নি।

ওই বাড়ির এক বাসিন্দা বলেন, বাড়ির মালিক আবুল কালাম আজাদ পিডব্লিউডির অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী। তিনি ও তাঁর স্ত্রী পবিত্র হজ পালন করতে গেছেন। যে ব্যক্তি নিহত হয়েছেন, তাঁকে গত দুই মাসে তিনি কখনো দেখেননি।