দীর্ঘ বিমানভ্রমণ শেষে পরশু রাতে ঢাকায়
এসেছেন। কাল দুপুরের পর এলেন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। বিসিবির প্রধান
নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সইয়ের পর সাংবাদিকদের সামনে
এসে বসলেন বাংলাদেশ দলের নতুন পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ। কিংবদন্তি ক্যারিবিয়ান ফাস্ট বোলারের সংবাদ সম্মেলনের নির্বাচিত অংশ—
*যে কারণে বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচের দায়িত্বে
কোর্টনি ওয়ালশ: কোনো একটা আন্তর্জাতিক
দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার স্বপ্ন অনেক দিন ধরেই দেখছিলাম। এটা এমন একটা
কাজের প্রস্তাব ছিল, যা আমি নিজেও করতে চাইছিলাম। এখন এর অংশ হতে পেরে আমি
খুশি।
*শুরুটা যেভাবে করতে চান
ওয়ালশ: প্রথমে যতটা সম্ভব চেষ্টা করব
সবার সম্পর্কে আলাদাভাবে জানতে। আমার জ্ঞানটা তাদের মধ্যে সমানভাবে ছড়িয়ে
দেওয়ার চেষ্টা করব। তারা কীভাবে তাদের খেলায় উন্নতি আনতে চায়, লক্ষ্য ও
উদ্দেশ্য কী। কাজটাতে যাতে দুই পক্ষের সমান অংশগ্রহণ থাকে, সেটাকে উৎসাহিত
করার চেষ্টা করব। দক্ষতা ও নিবেদন বাড়ানোর নানা চেষ্টা তো করবই। বলতে
পারেন দলের জন্য যেটা ভালো, সেটাতেই আমি আগ্রহী।
*বাংলাদেশের পেসারদের সম্পর্কে ধারণা
ওয়ালশ: নাম সেভাবে বলতে পারব না। তা
ছাড়া মানুষের নাম উল্লেখ করে কিছু বলাটাও আমি পছন্দ করি না। দেখা গেল আমি
কারও নাম বললাম, এরপর দু-তিনটা ম্যাচে সে ভালো খেলতে পারল না। তবে
বাংলাদেশের কিছু তরুণ ফাস্ট বোলারকে নিয়ে আমি খুব আগ্রহী। তারা অনেক
উন্নতি করেছে, এর সঙ্গে আমিও যদি একটু সাহায্য করতে পারি, সেটাই হবে আসল।
*উপমহাদেশ পেসারদের স্বর্গভূমি নয়
ওয়ালশ: ওয়েস্ট ইন্ডিজে ভারতের বিপক্ষে
শেষ সিরিজটার দিকে যদি তাকান, ভারতের কিছু ফাস্ট বোলার কিন্তু আমাদের
বিস্মিত করেছে। উপমহাদেশেও ফাস্ট বোলার হয়, ভালো ফাস্ট বোলারই হয়।
ব্যাপারটা হলো তাদের পরিচর্যা কীভাবে হচ্ছে, কীভাবে তাদের ধরে রাখা যায়।
সে জন্যই আমার এখানে আসা। ছেলেদের বলব নিজেদের ওপর চাপটা সম্পর্কে সচেতন
থাকতে, একই সঙ্গে ফর্মেও থাকতে।
*বাংলাদেশের পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া কতটা সহজ হবে
ওয়ালশ: আমি ১৭ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট
খেলেছি এবং এর সবই কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে নয়। মাত্রই ছেড়ে আসা
নির্বাচকের দায়িত্বে থাকার সময়ও ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে অনেক ঘুরেছি।
বাংলাদেশে আসার পর থেকে দেখছি এখানকার আবহাওয়া বেশ উষ্ণ, মানুষজন
বন্ধুভাবাপন্ন। নতুন বন্ধু বানানোর জন্য আমি তৈরি।
*বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ হিসেবে লক্ষ্য
ওয়ালশ: বাংলাদেশের বোলারদের একটাই
বার্তা দিতে চাই—তোমাদের শক্ত হতে হবে। কঠোর পরিশ্রমের জন্য তৈরি হতে
হবে। শারীরিকভাবে ফিট থাকতে হবে এবং ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। হাতে হাত
ধরে এই কাজগুলো করতে পারলেই আমরা সঠিক পথে থাকব। এটা এক রাতে হবে না।
ভিত্তি গড়তে কিছু কাজ করতে হবে আমাদের। মৌলিক কাজগুলো একবার ঠিকভাবে করা
শুরু করলে অনেক উন্নতিই আমরা দেখতে পাব, সে সঙ্গে ধারাবাহিকতাও।
*কোচিং ক্যারিয়ারের প্রথমেই যে কারণে বাংলাদেশে
ওয়ালশ: এখানে যেসব তরুণ খেলে, তাদের
ব্যাপারে আমি খুবই আগ্রহী। এখানে আসার সিদ্ধান্তটা তাই যেন এমনি এমনিই হয়ে
গেল। ক্যারিয়ারে কখনোই আমি বাংলাদেশে খেলিনি। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে
খেলেছি (একটি ওয়ানডেই খেলেছেন, ১৯৯৯ বিশ্বকাপে)। তা ছাড়া আমি সব সময়
চ্যালেঞ্জ নিয়ে দিন শেষে ভালো ফলাফল পেতে পছন্দ করি। সবকিছু মিলিয়েই এটা
হয়েছে। এখানে আসতে পেরে ভালো লাগছে। আশা করি, বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার সময়
অনেক উন্নতি দেখে যেতে পারব। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড খেলোয়াড়দের
উন্নতিতে যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেগুলোও আমাকে খুব আকৃষ্ট করেছে। তারা
তাদের র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি আনতে চায় এবং আমিও চাই সেটার অংশ হতে।
*বাংলাদেশ নিয়ে গর্ডন গ্রিনিজের সঙ্গে আলাপ হয়েছে কি না
ওয়ালশ: গর্ডনের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ
পাইনি। তবে সরাসরি কথা না হলেও অন্যের মাধ্যমে আলাপ হয়েছে। তবে আরও আগে তার
কাছে প্রায়ই বাংলাদেশ নিয়ে জানতে চাইতাম। বাংলাদেশের ক্রিকেটের অংশ হতে
পেরেছেন বলে তাঁকেও আনন্দিতই মনে হয়েছে আমার। ওই ব্যাপারটাও আমাকে
সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে। চেষ্টা করছি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে।
বাংলাদেশের ক্রিকেট যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে তিনি খুশিই হবেন।
*বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ হওয়ার প্রস্তাব পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া
ওয়ালশ: এটা এমন একটা ব্যাপার ছিল, যা
নিয়ে আমাকে দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়েছে। নিজাম (বিসিবির প্রধান নির্বাহী
কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী) আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায়, তারা
আমার ব্যাপারে আগ্রহী। আমি বললাম, আমাকে একটু ভাবতে দিন। কিন্তু পরে যখন
তিনি বললেন, আমাকে নেওয়াই তাদের প্রথম লক্ষ্য, তখন আমি বিষয়টাকে গুরুত্ব
দিই। মনে হলো, তারা এই দেশের ক্রিকেটটাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায়।
এরপর আমরা কথা শুরু করি এবং সেই ধারাবাহিকতায়ই আমি এখন এখানে। নিজামকে
ধন্যবাদ, তিনি আমাকে জানিয়েছেন আমি তাদের এক নম্বর পছন্দ। প্রধান কোচের
সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ভালো কিছু করতেই কাল (পরশু)
রাতে এখানে এলাম।
*বোলিং কোচ হিসেবে নিজের ভূমিকা
ওয়ালশ: নিজেকে আমি অতটা কোচ ভাবি না,
যতটা ভাবি মেন্টর। গ্লস্টার, জ্যামাইকা বা ওয়েস্ট ইন্ডিজে আমি ক্রিকেটের
সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। সব সময়ই চেয়েছি আমার হাতে এমন কিছু ফাস্ট বোলার
থাকুক, আমি যাদের ‘মেন্টর’ হব। কার্টলি অ্যামব্রোস সে রকমই একজন।
বাংলাদেশে দ্বিতীয় কোনো অ্যামব্রোস খুঁজে পেলে আমি খুশিই হব। দলে আসার
পর সে আমাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখত। বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পেস জুটি
গড়েছিলাম আমরা। ওই জিনিসটা বাংলাদেশের দুজন বোলারের মধ্যে সঞ্চারিত করতে
পারলে খুব খুশি হব আমি। আমি তাদের কোচ হিসেবে কাজ করব, একই সঙ্গে ‘ফাদার
ফিগার’ ও ‘মেন্টর’ হতে চাই। খেলোয়াড়েরা এমন এমন পরিস্থিতিতে পড়ে, যেখান
থেকে উঠে আসতে আমি হয়তো তাদের সাহায্য করতে পারব। ম্যালকম মার্শাল, মাইকেল
হোল্ডিং, জোয়েল গার্নারদের কথা মনে পড়ছে আমার। আমি যখন শুরু করি, ঠিক
এই কাজটাই তাঁরা আমার জন্য করেছিলেন। আশা করি, বাংলাদেশ দলের মধ্যেও আমি
সেটা ছড়িয়ে দিতে পারব।

0 comments:
Post a Comment